ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভোলায় জমি বিরোধে শিক্ষককে হামলা ও অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী শিক্ষক রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পেটের ক্ষুধায় ইউএনও অফিসের সামনে দিনমজুরদের আহাজারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ জামায়াত জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী তালতলীতে উদ্বোধনের একদিন পরই আগুনে পুড়ল দোকান, সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি মহেশখালীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন সক্রিয় করার অভিযোগ আইসিইউতে হাতকড়া পরে ভাইরাল হওয়া আ.লীগ নেতা মনির খানের মৃত্যু

নিষিদ্ধ অবস্থায় আজ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেটের সময়: ১০:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন)।

১৯৪৯ সালের এই ঐতিহাসিক দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল। ঢাকা মহানগরীর পুরোনো ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে এক রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা থেকে এই রাজনৈতিক দলটির জন্ম হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।

দলটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঢাকার রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত সেই ঐতিহাসিক প্রথম কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে দলের প্রথম সভাপতি এবং শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলার উদীয়মান ও তেজস্বী তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাঁর অবদানের কথা ভোলেননি। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থাতেই দূরদর্শী এই তরুণ নেতাকে নবগঠিত প্রথম কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ‘যুগ্ম সম্পাদক’ পদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয়, যা পরবর্তীতে তাঁর জাতীয় নেতা হয়ে ওঠার পথকে আরও প্রশস্ত করে।

আরও পড়ুনঃ  জামায়াত জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ

দলটির সাংগঠনিক বিস্তার ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের রূপান্তরের ক্ষেত্রে ১৯৫৩ ও ১৯৫৫ সালের কাউন্সিল দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

এরপর ১৯৫৫ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার সদরঘাটের ঐতিহাসিক রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলে দলটিকে আরও অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল এবং সর্বজনীন রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে দলের মূল নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি চিরতরে বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর দলটির চূড়ান্ত নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’।

আরও পড়ুনঃ  ভোলায় জমি বিরোধে শিক্ষককে হামলা ও অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী শিক্ষক

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১ মার্চ দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এর ঠিক প্রাক্কালেই তিনি বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে এই দলটির হাত ধরেই ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। নির্বাসন জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি দলের হাল ধরেন এবং সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলটির সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করে আসছেন।

আরও পড়ুনঃ  ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন সক্রিয় করার অভিযোগ

তবে ইতিহাসের এক দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে দলটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতন, বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দলটির কার্যক্রমে এক ধরণের স্থবিরতা এসেছে। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম আইনিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক বা জনসমাবেশ ভিত্তিক কর্মসূচি ছাড়াই অত্যন্ত নিরিবিলিতে উদযাপিত হচ্ছে দলটির এবারের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভোলায় জমি বিরোধে শিক্ষককে হামলা ও অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী শিক্ষক

নিষিদ্ধ অবস্থায় আজ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আপডেটের সময়: ১০:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন)।

১৯৪৯ সালের এই ঐতিহাসিক দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল। ঢাকা মহানগরীর পুরোনো ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে এক রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা থেকে এই রাজনৈতিক দলটির জন্ম হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।

দলটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঢাকার রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত সেই ঐতিহাসিক প্রথম কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে দলের প্রথম সভাপতি এবং শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলার উদীয়মান ও তেজস্বী তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাঁর অবদানের কথা ভোলেননি। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থাতেই দূরদর্শী এই তরুণ নেতাকে নবগঠিত প্রথম কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ‘যুগ্ম সম্পাদক’ পদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয়, যা পরবর্তীতে তাঁর জাতীয় নেতা হয়ে ওঠার পথকে আরও প্রশস্ত করে।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

দলটির সাংগঠনিক বিস্তার ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের রূপান্তরের ক্ষেত্রে ১৯৫৩ ও ১৯৫৫ সালের কাউন্সিল দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

এরপর ১৯৫৫ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার সদরঘাটের ঐতিহাসিক রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলে দলটিকে আরও অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল এবং সর্বজনীন রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে দলের মূল নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি চিরতরে বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর দলটির চূড়ান্ত নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’।

আরও পড়ুনঃ  দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষোভ

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১ মার্চ দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এর ঠিক প্রাক্কালেই তিনি বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে এই দলটির হাত ধরেই ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। নির্বাসন জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি দলের হাল ধরেন এবং সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলটির সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করে আসছেন।

আরও পড়ুনঃ  ভোলায় জমি বিরোধে শিক্ষককে হামলা ও অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী শিক্ষক

তবে ইতিহাসের এক দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে দলটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতন, বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দলটির কার্যক্রমে এক ধরণের স্থবিরতা এসেছে। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম আইনিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক বা জনসমাবেশ ভিত্তিক কর্মসূচি ছাড়াই অত্যন্ত নিরিবিলিতে উদযাপিত হচ্ছে দলটির এবারের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।