
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সহ দেশের ২২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইবি গ্রীণ ফোরাম এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ইবি ইউট্যাব।
বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম এবং ইউট্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
গ্রীণ ফোরামের বিবৃতিতে বলা হয়, পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার অপতৎপরতায় দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংগঠনটি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের নামও গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইন ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার শামিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে ইউট্যাবের বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্র ও জনস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদন গভীর উদ্বেগের বিষয়। নিষিদ্ধ একটি দলের আদর্শে উদ্বুদ্ধ শিক্ষকদের এমন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
এছাড়া, এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তারও আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জুলাই-আগস্টের চেতনা ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অগ্রগতিশীল শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহতকারী সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ইউট্যাব।
উল্লেখ্য, আগস্ট মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকসহ দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি গোপন গ্রুপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করা এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরির অপতৎপরতায় যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 















