
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার মধ্যেই গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রোববার (২ আগস্ট) ভোর থেকে চালানো এসব হামলায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়িয়ে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই আবাসিক ভবন ও জনসমাগমস্থলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় শনিবার অন্তত আটজন এবং শুক্রবার আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) ওয়াশিংটনের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত বোর্ড অব পিস ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাস অস্ত্র ত্যাগে সম্মতি দিলেও ইসরায়েল সরকার এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও অব্যাহত হামলা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যত একটি ‘প্রতারণায়’ পরিণত হয়েছে। কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মহনদ মুস্তফা বলেন, এসব চুক্তি ইসরায়েলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং দেশটি নিজস্ব ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ধারাবাহিকভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে।
অন্যদিকে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং সেনা প্রত্যাহারকে ঘিরে প্রস্তাবিত পরিকল্পা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান বলেন, হামাস সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেনও বলেছেন, আলোচনা চলাকালে হামলা বন্ধ রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ভণ্ডুল করতেই ইসরায়েল হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। বোর্ড অব পিসের প্রধান দূত নিকোলে ম্লাদেনভ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতাকারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
অনলাইন ডেস্ক 















