
পটুয়াখালীর দুমকীতে গর্ভবতী নারীসহ একাধিক রোগীকে ভুল চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে লুথার্যান হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাহিরা মুরতাজার বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী এক নারীর বাবা মো. জলিলুর রহমান ২১ জুন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ পত্র সূত্রে জানাগেছে, গত ১৬ জুন তাঁর মেয়ে জান্নাতুল জেমি গর্ভবতী চেকআপ করতে লুথার্যান হাসপাতালের গাইনি ডা.তাহিরা মুরতাজার নিকট গেলে তিনি ওই নারীকে বিভিন্ন প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা দেন। তিনি লুথার্যান হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। ভর্তি না হলে এবং তার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা না নিলে গর্ভের বাচ্চার ক্ষতি হওয়ারও ভয় দেখান। তাঁর ব্যবস্থাপত্রে ১২ প্রকার ঔষধ লিখেন যার মধ্যে চার প্রকারের ইনজেকশন রয়েছে। গর্ভবতী নারী আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে লুথার্যান হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে পরের দিন পটুয়াখালী চলে যান এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌসী আকতার নারগিসকে দেখান। তিনি ওই গর্ভবতীকে জানান তাঁর গর্ভের বাচ্চার কোন সমস্যা নেই। তিনি কিছু ঔষধ লিখে দেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। তাঁর দাবি ডা. তাহিরার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে গর্ভজাত বাচ্চার ক্ষতি হতে পারতো। তিনি লুথার্যান হাসপাতালের ডা. তাহিরা মুরতাজার ভুল চিকিৎসার জন্য তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা দেয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর ১৩ জুলাই ফাহিমা আক্তার নামে এক গর্ভবতী রোগীর সিজার করতে গিয়ে মুত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত করলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। রোগীর স্বজনদের সাথে সমঝোতা করে এবং ভুল চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এবিষয়ে ওই রোগীর স্বামী মো.সোলায়মান হোসেন জানান, ডা.তাহিরার ভুল চিকিৎসার কারনে তাঁর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া ব্যবসা বন্ধ রেখে স্ত্রীর সাথে মাসব্যাপী বরিশালে থাকতে হয়েছে। তিনিও এর বিচার দাবি করছেন।
সোহাগ নামে এক রোগীর স্বজন জানান, তাঁর মামীকে ওই ডাক্তার রক্তের ইনজেকশন দেয়ায় তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, পরবর্তীতে তাকে ঢাকা নিয়ে গেলে সাতদিন পর তাঁর মামী মারা যায়। তাঁর দাবী লুথার্যান হাসপাতালে যেন ভালো গাইনি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়। তাহলে ভুল চিকিৎসায় কোন রোগীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটবেনা।
অপরদিকে এবছরের ২১ ফেব্রুয়ারী অপরিণত বয়সী নবজাতককে সিজার করে বের করলে নবজাতকের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে তিনি পটুয়াখালী হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং সেখান থেকে বরিশাল। বরিশাল থেকে ঢাকা নেয়ার পথে নবজাতকটি মারা যায়। এ নিয়েও তুমুল আলোচনা-সমালোচা শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড.গ্রেনার মারাক ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে নিজস্ব তহবিল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের টাকা মওকুফ করেন। যদিও গ্রেনার মারাক ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ঘুরিয়ে চিকিৎসা ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
ডা.তাহিরা মুরতাজা বলেন,তার বিষয়ে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।গর্ভবতী নারীর পেটে পানি কম থাকায় তিনি রোগীকে ভর্তি হতে বলেছিলেন। এবিষয়ে সিভিল সার্জন মহোদয় জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত জবাব দিবেন।
দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন বলেন, সিভিল সার্জন বরাবরে একটি অভিযোগের অনুলিপি তিনি পেয়েছেন।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা.মো.খালেদুর রহমান মিয়া জানান, তিনি দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বুধবার কর্মস্থলে ফিরে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবেন।
স্টাফ রিপোর্টার দুমকী পটুয়াখালী 
















