ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী তালতলীতে উদ্বোধনের একদিন পরই আগুনে পুড়ল দোকান, সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি মহেশখালীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন সক্রিয় করার অভিযোগ আইসিইউতে হাতকড়া পরে ভাইরাল হওয়া আ.লীগ নেতা মনির খানের মৃত্যু তালতলীতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মাইনুল, সম্পাদক ফয়সাল দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষোভ সাকিব আল হাসানের বাড়িতে আগুন পবিপ্রবিতে জুলাই শহীদ যোদ্ধা ও আহতদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে চার ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

ভোলায় ফসলি জমি পানির নিচে, দিশেহারা কৃষক

পানি নিষ্কাশনের সকল পথ বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩৫০ একর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। এতে চলতি আমন মৌসুমে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার শতশত কৃষক। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যাবে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সাত আট বছর যাবত বর্ষা ও আমন মৌসুমে ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মালেরচর বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি কমে গেলে কিংবা শুকিয়ে গেলেই কেবল এসব জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হয়। তবে চলতি মৌসুমে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বিলের বিভিন্ন স্থানে প্রায় পাঁচ ফুট পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে।

স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আল আমিন জানান, আমন ধান চাষের লক্ষ্যে কৃষকরা যে বীজতলা তৈরি করেছিলেন, সেগুলোও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় অনেক বীজ ও ধানের চারা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সময়মতো পানি নিষ্কাশন করা না গেলে আমন চাষ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

আরও পড়ুনঃ  আইসিইউতে হাতকড়া পরে ভাইরাল হওয়া আ.লীগ নেতা মনির খানের মৃত্যু

কৃষকদের দাবি, সাত-আট বছর আগেও এই বিলের জমিতে মুগ, মরিচ, তিল, তিষি, আলু, সরিষাসহ বিভিন্ন রবি শস্যের চাষ হতো। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে এখন ইরি ধান ছাড়া অন্য ফসল চাষ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াকেই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে পানি চলাচলের পথ দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ এবং মাছের ঘের করায় পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। সরেজমিনে বিলের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি কালভার্ট দেখা গেলেও সেগুলো বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। কোথাও কোথাও কালভার্ট ভেঙে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  তালতলীতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মাইনুল, সম্পাদক ফয়সাল

এলাকাবাসী জানান, কৃষিকাজই এখানকার বহু পরিবারের প্রধান জীবিকার অবলম্বন। প্রায় ৩৫০ একর কৃষিজমির সঙ্গে তিন চার শত কৃষকের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। বছরের গুরুত্বপূর্ণ আমন মৌসুমে জমিতে ফসল করতে না পারলে পরিবার নিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হবে তাদের।

এদিকে এই প্রতিবেদকের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তাৎক্ষণিক ছুটে আসেন বাপ্তা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাসান মিজানুর রহমান নীরব মেম্বার। তিনি প্রায় তিন চার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বিলে দুই পাশ ঘুরে দেখেন। কথা বলেন স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকদের সঙ্গে। পরে তিনি জানান, বিগত দিনে চারপাশ দিয়েই বিলের পানি নেমে যেত। কয়েক বছর ধরে মানুষের বাড়িঘর উঠেছে। রাস্তাঘাট হয়েছে। তাই বিল থেকে পানি নিষ্কাশনের সবগুলো পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, অনেকের সাথে আমার কথা হয়েছে। সকলেরই দাবি, বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক। ‘দুই একজন আছেন যারা, এই বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের জায়গা দিতে চাচ্ছেন না। তারপরও সকলকে ডেকেছি। জমির মালিক, কৃষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ  সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করে একটা ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে নিজে ব্যক্তিগত টাকা খরচ করে হলেও একটা ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।’

আরও পড়ুনঃ  জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে চার ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

এদিকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জমিগুলো চাষাবাদের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী

ভোলায় ফসলি জমি পানির নিচে, দিশেহারা কৃষক

আপডেটের সময়: ১০:১২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

পানি নিষ্কাশনের সকল পথ বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩৫০ একর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। এতে চলতি আমন মৌসুমে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার শতশত কৃষক। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যাবে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সাত আট বছর যাবত বর্ষা ও আমন মৌসুমে ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মালেরচর বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি কমে গেলে কিংবা শুকিয়ে গেলেই কেবল এসব জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হয়। তবে চলতি মৌসুমে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বিলের বিভিন্ন স্থানে প্রায় পাঁচ ফুট পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে।

স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আল আমিন জানান, আমন ধান চাষের লক্ষ্যে কৃষকরা যে বীজতলা তৈরি করেছিলেন, সেগুলোও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় অনেক বীজ ও ধানের চারা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সময়মতো পানি নিষ্কাশন করা না গেলে আমন চাষ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

আরও পড়ুনঃ  তালতলীতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মাইনুল, সম্পাদক ফয়সাল

কৃষকদের দাবি, সাত-আট বছর আগেও এই বিলের জমিতে মুগ, মরিচ, তিল, তিষি, আলু, সরিষাসহ বিভিন্ন রবি শস্যের চাষ হতো। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে এখন ইরি ধান ছাড়া অন্য ফসল চাষ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াকেই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে পানি চলাচলের পথ দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ এবং মাছের ঘের করায় পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। সরেজমিনে বিলের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি কালভার্ট দেখা গেলেও সেগুলো বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। কোথাও কোথাও কালভার্ট ভেঙে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  মহেশখালীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এলাকাবাসী জানান, কৃষিকাজই এখানকার বহু পরিবারের প্রধান জীবিকার অবলম্বন। প্রায় ৩৫০ একর কৃষিজমির সঙ্গে তিন চার শত কৃষকের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। বছরের গুরুত্বপূর্ণ আমন মৌসুমে জমিতে ফসল করতে না পারলে পরিবার নিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হবে তাদের।

এদিকে এই প্রতিবেদকের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তাৎক্ষণিক ছুটে আসেন বাপ্তা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাসান মিজানুর রহমান নীরব মেম্বার। তিনি প্রায় তিন চার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বিলে দুই পাশ ঘুরে দেখেন। কথা বলেন স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকদের সঙ্গে। পরে তিনি জানান, বিগত দিনে চারপাশ দিয়েই বিলের পানি নেমে যেত। কয়েক বছর ধরে মানুষের বাড়িঘর উঠেছে। রাস্তাঘাট হয়েছে। তাই বিল থেকে পানি নিষ্কাশনের সবগুলো পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, অনেকের সাথে আমার কথা হয়েছে। সকলেরই দাবি, বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক। ‘দুই একজন আছেন যারা, এই বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের জায়গা দিতে চাচ্ছেন না। তারপরও সকলকে ডেকেছি। জমির মালিক, কৃষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ  সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করে একটা ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে নিজে ব্যক্তিগত টাকা খরচ করে হলেও একটা ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।’

আরও পড়ুনঃ  ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন সক্রিয় করার অভিযোগ

এদিকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জমিগুলো চাষাবাদের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।