
বরগুনার তালতলী উপজেলার পশ্চিম শারিকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব (রব) মাস্টারের বিরুদ্ধে সরকারি বিদ্যালয়ের ভবনকে ব্যক্তিগত বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা মো. নাসির মেম্বারসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ভবনেই বসবাস করছেন। এতে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার হচ্ছে বলে দাবি তাদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত আবাসস্থলে পরিণত করায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, “সরকারি অর্থে নির্মিত বিদ্যালয় ভবন শিক্ষার্থীদের জন্য, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বাসস্থানের জন্য নয়।” তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নাকি বলেন, “আমি সরকারকে ভাড়া দিয়েই থাকি।” তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন যদি সত্যিই ভাড়া দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই ভাড়ার অর্থ সরকারি কোন খাতে জমা হচ্ছে এবং কে তা গ্রহণ করছেন?
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব মাস্টার দাবি করেন, তিনি অফিসের অনুমতি নিয়েই বিদ্যালয়ের ভবনে অবস্থান করছেন। তবে লিখিত অনুমতিপত্র দেখাতে বললে তিনি তা দেখাতে পারেননি।বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশারের কার্যালয়ে গেলে দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ১২ টায়ও তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে কল কেটে দেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা শিক্ষা বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু অভিযোগ ওঠার পরও যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বদলির মাধ্যমে ভবন থেকে অপসারণ, প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
জনগণের অর্থে নির্মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত ব্যবহারের স্থানে পরিণত না হয় এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মোঃ সুমন বেপারী,শিক্ষানুবিশ প্রতিনিধি 

















