
বরগুনার তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরগাছা এলাকায় শালিস বৈঠক অমান্য করে জোরপূর্বক বসতভিটা দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জালাল হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষ নাজির খান ও দেলোয়ার খানসহ কয়েকজন মিলে স্থানীয় শালিস ভেঙে দিয়ে তার দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি দখলের চেষ্টা চালান।
গত বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জালাল হাওলাদার (৬২) বাদী হয়ে তালতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য
অভিযোগপত্রে জালাল হাওলাদার উল্লেখ করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ও তার পরিবার ওই জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জমির মালিক নাজির খান (৫০) ও দেলোয়ার খান (৫২) দীর্ঘ দিন ধরে তাদের জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।
জালাল হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এই জমিতে দীর্ঘ ২০ বছর যাবত পরিবার নিয়ে আছি। সীমানা বিরোধের জেরে স্থানীয়ভাবে শালিস ডেকেছিলাম। প্রতিপক্ষরা প্রথমে শালিশ মানলেও, নির্ধারিত দিনে এসে বৈঠক বাতিল করে দেয় এবং জোরপূর্বক জমি দখল করতে চায়। আমি সরকারের কাছে সঠিক বিচার চাই, যেন সন্ত্রাসীদের কাছে হেরে না যাই।”
তার ছেলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই বাড়িতে বড় হয়েছি। আমাদের সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও নাজির ও দেলোয়ার খানরা গায়ের জোরে আমাদের বাড়ি ভেঙে দিতে চায়। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিপক্ষের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার দিন দুই পক্ষের উপস্থিতিতে শালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা বৈঠক ভেঙে দিয়ে একপর্যায়ে বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে জোরপূর্বক খুঁটি (পিলার) পুঁতে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা জালাল হাওলাদারকে মারধরের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দেলোয়ার খান দাবি করেন, “আমরা জালাল হাওলাদারের বাড়ির ভেতর জায়গা পাব। তারা আমাদের জায়গায় বাড়ি করেছে। তাই আমরা সরকারি আমিন ডেকে সীমানা নির্ধারণ করেছি। পরবর্তীতে বসে আমরা এটা সমাধান করব।”
প্রশাসনের আশ্বাস
এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোঃ সুমন বেপারী,শিক্ষানুবিশ প্রতিনিধি 
















