
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কালবেলার মোজো রিপোর্টার রুমেল আহমেদের ওপর হামলা হয়েছে। জেলার কয়েকজন সাংবাদিকের নেতৃত্বে এ হামলা হয়। বেধড়ক মারধর ও কিল-ঘুষিতে আহত রুমেল হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে শরীফপুর ইউনিয়নের আমতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এদিন এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের কর্মসূচি কাভার করতে ঢাকা থেকে শরীফপুরে যান রুমেল আহমেদ। এ সময় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন সাংবাদিক রুমেলকে তাদের জন্য সুবিধাজনক জায়গা ছেড়ে দিতে বললে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি আগে থেকেই ওই স্থানে অবস্থান করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলেই তাকে হেনস্তা করেন।
পরে দ্বিতীয় দফায় আমতলা বাজারে ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি শাহবান রশীদ চৌধুরী অনি রুমেল আহমেদকে একা ডেকে নেন। সেখানে কয়েকজন সাংবাদিক তাকে কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— চ্যানেল ওয়ানের জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান আহমদ, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি শেখ সিরাজুল ইসলাম, মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মু. ইমাদ উদ-দীন, ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি শাহবান রশীদ চৌধুরী অনি এবং জনবাণীর কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি জামাল হোসেন তারেক।

ভুক্তভোগী রুমেল আহমেদ বলেন, ‘নিজ জেলায় এসে সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ধারী কয়েকজনের হামলার শিকার হলাম। তাও আবার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার এস এম উমেদ আলীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। এরপর আমার ওপর উপর্যুপরি কিল-ঘুষি চালানো হয়। মারধরের পর প্রথমে স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।’
হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রুবেল খান নামের এক যুবক। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমি দেখলাম একজনকে সবাই মিলে মারছে। পরে এগিয়ে যাই। তারা বলাবলি করছিলো আরও মারবে। পরে আমিসহ কয়েকজন তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিই।’
জানা গেছে, জেলায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন উমেদ আলী। এর আগেও ঢাকা থেকে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আছে এই গ্রুপটির বিরুদ্ধে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীকের কাছে এই গ্রুপটি ‘মাফিয়া গ্রুপ’ হিসেবে পরিচিত।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শেফুল কালবেলাকে বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। তাদের বিরুদ্ধে আগেও এরকম অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটা আমরা আলোচনা করব।’
এদিকে ডিবিসি নিউজের ডেপুটি নিউজ এডিটর (ডিএনই) মিঠুন বিশ্বাস কালবেলাকে বলেছেন, যেহেতু হামলার প্রমাণ আছে। তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি 


















