ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা ফসলি জমিতে ১৫ বছরের কিশোরীর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি কমলেও চীন-ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ মাল্টা ৪০০–৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে তিন শতাংশেরও বেশি ১৪ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার, ক্রয় কমিটিতে আরও ৯ প্রস্তাব অনুমোদন সুনামগঞ্জে মসজিদের মাইকে ডেকে লোক জড়ো, পুলিশের সামনে চার গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি গ্রেপ্তার লিটারে ১৭ টাকা বেড়েছে জেট ফুয়েলের দাম

মধ্যনগরে বক্স কালভার্টের নামে ‘ছোট ড্রেন’ নির্মাণ, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী*

 

শফিকুল ইসলাম শফিক,মধ্যনগর সুনামগঞ্জ


বরাদ্দ স্বল্পতা আর নিম্নমানের কাজের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি এলাকা। কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র সড়কে বক্স কালভার্টের নামে ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের সরু ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি কবরস্থান সড়কে বক্স কালভার্টের নির্মাণকাজ এখনো চলমান। কিন্তু ঠিকাদার ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও মাত্র ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের একটি সরু কাঠামো তৈরি করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে কাজ শেষ হলে ভারী বৃষ্টিতে পানি আটকে যাবে, রাস্তা তলিয়ে যাবে, আর দুর্ভোগের শেষ হবে না।

আরও পড়ুনঃ  সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার

কার্তিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান খন্দকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা আমাদের বাপ-দাদার লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাই। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে। বাচ্চারা মাদ্রাসায় যেতে পারে না, বৃদ্ধরা মসজিদে যেতে পারেন না। ১৮ ইঞ্চির এই ড্রেন দিয়ে কীভাবে পানি নামবে? আমরা কি মানুষ নই?”

মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. মানিক মিয়া বলেন, “এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদি ঠিকাদার এই টাকাও সঠিকভাবে খরচ করতেন, তবু কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী এতই দুর্বল যে কাজ টিকবে কি না সন্দেহ। এভাবে সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে।”

আরও পড়ুনঃ  মাল্টা ৪০০–৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্থানীয়দের একমাত্র দাবি, কালভার্টটি ন্যূনতম ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থে নির্মাণ করতে হবে। তবেই পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে। তারা বর্তমান সরু কাঠামো ভেঙে প্রকৃত বক্স কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, “বর্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্লাসে আসে। জানাজা নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার সময় মানুষ পড়ে যায়। এটাকে উন্নয়ন বলা যায় না, এটা অবহেলা।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কাজের জন্য বরাদ্দ মাত্র এক লাখ টাকা। এই অর্থে বড় আকারের বক্স কালভার্ট নির্মাণ সম্ভব নয়। বরাদ্দ বাড়লে প্রকৃত কালভার্ট করা যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু

বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান দেখব। বরাদ্দের বিষয়টিও যাচাই করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও হাওরবন্ধু জননেতা কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হবে।

Tag :

সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার

মধ্যনগরে বক্স কালভার্টের নামে ‘ছোট ড্রেন’ নির্মাণ, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী*

আপডেটের সময়: ০৪:৩৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

 

শফিকুল ইসলাম শফিক,মধ্যনগর সুনামগঞ্জ


বরাদ্দ স্বল্পতা আর নিম্নমানের কাজের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি এলাকা। কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র সড়কে বক্স কালভার্টের নামে ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের সরু ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি কবরস্থান সড়কে বক্স কালভার্টের নির্মাণকাজ এখনো চলমান। কিন্তু ঠিকাদার ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও মাত্র ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের একটি সরু কাঠামো তৈরি করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে কাজ শেষ হলে ভারী বৃষ্টিতে পানি আটকে যাবে, রাস্তা তলিয়ে যাবে, আর দুর্ভোগের শেষ হবে না।

আরও পড়ুনঃ  মাল্টা ৪০০–৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

কার্তিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান খন্দকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা আমাদের বাপ-দাদার লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাই। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে। বাচ্চারা মাদ্রাসায় যেতে পারে না, বৃদ্ধরা মসজিদে যেতে পারেন না। ১৮ ইঞ্চির এই ড্রেন দিয়ে কীভাবে পানি নামবে? আমরা কি মানুষ নই?”

মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. মানিক মিয়া বলেন, “এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদি ঠিকাদার এই টাকাও সঠিকভাবে খরচ করতেন, তবু কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী এতই দুর্বল যে কাজ টিকবে কি না সন্দেহ। এভাবে সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে।”

আরও পড়ুনঃ  ১৪ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার, ক্রয় কমিটিতে আরও ৯ প্রস্তাব অনুমোদন

স্থানীয়দের একমাত্র দাবি, কালভার্টটি ন্যূনতম ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থে নির্মাণ করতে হবে। তবেই পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে। তারা বর্তমান সরু কাঠামো ভেঙে প্রকৃত বক্স কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, “বর্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্লাসে আসে। জানাজা নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার সময় মানুষ পড়ে যায়। এটাকে উন্নয়ন বলা যায় না, এটা অবহেলা।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কাজের জন্য বরাদ্দ মাত্র এক লাখ টাকা। এই অর্থে বড় আকারের বক্স কালভার্ট নির্মাণ সম্ভব নয়। বরাদ্দ বাড়লে প্রকৃত কালভার্ট করা যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  সৌদির পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান, দ্রুত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা

বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান দেখব। বরাদ্দের বিষয়টিও যাচাই করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও হাওরবন্ধু জননেতা কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হবে।