ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডাকলেন তারেক রহমান

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেটের সময়: ০৬:৩০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ সময় দেখুন

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। এর মধ্যেই আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।

সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দু–এক দিন আগে বা অধিবেশনের মধ্যে সংসদীয় দলের সভা হয়; কিন্তু এবার সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ধারণা, নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকেছেন, তিনি নিশ্চয়ই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে ইনস্ট্রাকশন (নির্দেশনা) দেবেন।’

আরও পড়ুনঃ  শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি গ্রেপ্তার

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপির সংসদীয় দলের নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিএনপির নেতারা।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলোচনায় আসতে পারে। দলের সাংগঠনিক বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও সংবিধান সংশোধন

ক্ষমতাসীন দলের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনাটির পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু

এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিএনপি।

এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংসদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে দলের অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার

স্থানীয় নির্বাচন ও দলের সংগঠন

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও ক্ষোভ সামলানো, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই—সবই দলের জন্য চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা তৃণমূলের অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার পর সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। কমিটি পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্থানীয় ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘পুরোপুরি প্রস্তুত নয়’

বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডাকলেন তারেক রহমান

আপডেটের সময়: ০৬:৩০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। এর মধ্যেই আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।

সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দু–এক দিন আগে বা অধিবেশনের মধ্যে সংসদীয় দলের সভা হয়; কিন্তু এবার সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ধারণা, নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকেছেন, তিনি নিশ্চয়ই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে ইনস্ট্রাকশন (নির্দেশনা) দেবেন।’

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি কমলেও চীন-ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপির সংসদীয় দলের নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিএনপির নেতারা।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলোচনায় আসতে পারে। দলের সাংগঠনিক বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও সংবিধান সংশোধন

ক্ষমতাসীন দলের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনাটির পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার

এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিএনপি।

এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংসদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে দলের অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

স্থানীয় নির্বাচন ও দলের সংগঠন

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও ক্ষোভ সামলানো, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই—সবই দলের জন্য চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা তৃণমূলের অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার পর সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। কমিটি পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।