ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
স্থানীয় ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘পুরোপুরি প্রস্তুত নয়’ রবীন্দ্রনাথের ছবি মোছার চেষ্টা: চারজনকে রিমান্ড দিয়েছে আদালত বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডাকলেন তারেক রহমান খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি দিতে গিয়ে আটক ৪ রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ঘোষণা ট্রাম্পের, পুতিনের জন্য ‘উপহার’ বললেন জেলেনস্কি উত্তপ্ত দিল্লি, চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক প্রায় ৫ হাজার ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের দামে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেটের সময়: ০৫:২৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ সময় দেখুন

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজারে নজরদারি জোরদারের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার দাম নির্ধারণ করায় এখানে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে সরাসরি দৃশ্যমান হয়।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সরবরাহব্যবস্থার কোথাও অসংগতি তৈরি হলে তার প্রভাব পণ্যের দামে পড়তে পারে। সরকার এসব জায়গা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুনঃ  ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেন অন্য পণ্যের ওপর প্রভাব না আসে, মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, এটির জন্য আমরা কাজ করছি।

সম্প্রতি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের কথাও জানান তিনি। সেখানে পণ্য আমদানি, পরিবহন ও বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের যেসব জায়গায় অসংগতি রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, উৎপাদনও বাড়ছে

গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সাম্প্রতিক যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটিও কেটে গেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সমস্যা নেই।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি করা কাঁচামাল ও পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডাকলেন তারেক রহমান

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চিনি ও সয়াবিনসহ আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এসব পণ্যের কারখানাগুলো এখন পুরোদমে চলছে। ফলে বাজারে সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট হওয়ার কথা নয়।

সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার আশা, পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং মূল্যবৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য কোনো অভিঘাত বাজারে দেখা যাবে না।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ জন শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ১৪ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার, ক্রয় কমিটিতে আরও ৯ প্রস্তাব অনুমোদন

চা বাগানের আয় বাড়ানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাগানগুলোকে লাভজনক করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কয়েক দিন আগেও বৈঠক হয়েছে।

চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানের জমিতে কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছসহ অন্য কোনো গাছ লাগানোর সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি যেসব বাগানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাগানের আয় বাড়ানো। আয় বাড়লে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, স্কুলবিহীন বাগানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বাগানের সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মজুরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্থানীয় ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘পুরোপুরি প্রস্তুত নয়’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের দামে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটের সময়: ০৫:২৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজারে নজরদারি জোরদারের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার দাম নির্ধারণ করায় এখানে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে সরাসরি দৃশ্যমান হয়।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সরবরাহব্যবস্থার কোথাও অসংগতি তৈরি হলে তার প্রভাব পণ্যের দামে পড়তে পারে। সরকার এসব জায়গা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুনঃ  লিটারে ১৭ টাকা বেড়েছে জেট ফুয়েলের দাম

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেন অন্য পণ্যের ওপর প্রভাব না আসে, মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, এটির জন্য আমরা কাজ করছি।

সম্প্রতি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের কথাও জানান তিনি। সেখানে পণ্য আমদানি, পরিবহন ও বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের যেসব জায়গায় অসংগতি রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, উৎপাদনও বাড়ছে

গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সাম্প্রতিক যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটিও কেটে গেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সমস্যা নেই।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি করা কাঁচামাল ও পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে তিন শতাংশেরও বেশি

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চিনি ও সয়াবিনসহ আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এসব পণ্যের কারখানাগুলো এখন পুরোদমে চলছে। ফলে বাজারে সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট হওয়ার কথা নয়।

সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার আশা, পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং মূল্যবৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য কোনো অভিঘাত বাজারে দেখা যাবে না।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ জন শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ফসলি জমিতে ১৫ বছরের কিশোরীর মরদেহ

চা বাগানের আয় বাড়ানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাগানগুলোকে লাভজনক করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কয়েক দিন আগেও বৈঠক হয়েছে।

চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানের জমিতে কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছসহ অন্য কোনো গাছ লাগানোর সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি যেসব বাগানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাগানের আয় বাড়ানো। আয় বাড়লে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, স্কুলবিহীন বাগানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বাগানের সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মজুরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।