ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা ফসলি জমিতে ১৫ বছরের কিশোরীর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি কমলেও চীন-ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ মাল্টা ৪০০–৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে তিন শতাংশেরও বেশি ১৪ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার, ক্রয় কমিটিতে আরও ৯ প্রস্তাব অনুমোদন সুনামগঞ্জে মসজিদের মাইকে ডেকে লোক জড়ো, পুলিশের সামনে চার গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি গ্রেপ্তার লিটারে ১৭ টাকা বেড়েছে জেট ফুয়েলের দাম

গ্যাস সংকটের জন্য সরকার এককভাবে দায়ী নয়: জাহেদ উর রহমান

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেটের সময়: ১০:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৩ সময় দেখুন

দেশের চলমান গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিরসনে আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। এটি একদিনে সমাধান করার মতো নয়। সংকট স্থায়ীভাবে নিরসনে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটে মানুষের কষ্ট হচ্ছে—এটি সত্য। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে বর্তমান সংকটের জন্য সরকারকে এককভাবে দায়ী করা সঠিক নয়।

আরও পড়ুনঃ  ১৪ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার, ক্রয় কমিটিতে আরও ৯ প্রস্তাব অনুমোদন

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার পাশাপাশি সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতির কারণে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যা ও অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।

সাম্প্রতিক সময়ে টার্মিনাল পুনরায় চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির চেষ্টা চলছে। দেশের স্থলভাগে নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু

ড. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বিভিন্ন জরিপের তথ্য অনুযায়ী দেশের স্থলভাগে ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে। অথচ বর্তমানে দেশে বছরে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। সম্ভাব্য দেশীয় গ্যাসসম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলন করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই জ্বালানি খাতে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি আমদানি এবং জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি করা হবে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। তাই গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিরসনে অন্তত আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জে মসজিদের মাইকে ডেকে লোক জড়ো, পুলিশের সামনে চার গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ

সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার

গ্যাস সংকটের জন্য সরকার এককভাবে দায়ী নয়: জাহেদ উর রহমান

আপডেটের সময়: ১০:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

দেশের চলমান গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিরসনে আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। এটি একদিনে সমাধান করার মতো নয়। সংকট স্থায়ীভাবে নিরসনে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটে মানুষের কষ্ট হচ্ছে—এটি সত্য। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে বর্তমান সংকটের জন্য সরকারকে এককভাবে দায়ী করা সঠিক নয়।

আরও পড়ুনঃ  সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার পাশাপাশি সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতির কারণে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যা ও অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।

সাম্প্রতিক সময়ে টার্মিনাল পুনরায় চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির চেষ্টা চলছে। দেশের স্থলভাগে নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি কমলেও চীন-ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ড. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বিভিন্ন জরিপের তথ্য অনুযায়ী দেশের স্থলভাগে ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে। অথচ বর্তমানে দেশে বছরে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। সম্ভাব্য দেশীয় গ্যাসসম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলন করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই জ্বালানি খাতে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি আমদানি এবং জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি করা হবে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। তাই গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিরসনে অন্তত আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু

সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।