
বরগুনার তালতলী উপজেলার আলীর বন্দর এ.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সরকারি ভবনে ব্যক্তিগতভাবে রান্না ও বসবাসের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত বিদ্যালয় ভবন মূলত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট থাকলেও প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন নিয়মবহির্ভূতভাবে সেখানে থাকছেন ও রান্নাবান্না করছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার সরকারি সম্পদের নির্ধারিত উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফির নামে জনপ্রতি ১,৩৫০ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। এই অর্থ আদায়ের পেছনে সংশ্লিষ্ট কোনো নীতিমালা বা অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের বলেন:
“আমি সাংবাদিকদের কাছে কোনো কৈফিয়ত দেব না। যেখানে দেওয়ার দরকার সেখানে দেব। আর স্কুলে রান্নাবান্নার ব্যাপারে আপনার কী মনে হয়, আমি অফিসের অনুমতি ছাড়া রান্না করছি?”
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তাদেরকে স্কুলে রান্নাবান্না করে খেতে বলিনি।” তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত বা অন্য কোনো বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে বিষয়টি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হলেও, সংবাদ লেখা পর্যন্ত অভিযোগ তদন্তে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এছাড়া সেশন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি তুলেছেন তারা। এলাকার সচেতন নাগরিকরা এই অভিযোগগুলোর দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সুমন বেপারী,শিক্ষানুবিশ প্রতিনিধি 

















