ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীর নবজাতক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ভাইরাল ঘটনার সেই চাচী গ্রেপ্তার

নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী এক নবজাতক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ভাইরাল ঘটনার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার ওরফে লতা (৩২)‌ কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১১)।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টায় র‍্যাব-১১ নরসিংদীর অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্প কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

র‍্যাব জানায়, সম্প্রতি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার পাইকারদী এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই মাস বয়সী এক শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। শিশুটির মায়ের গোপনে রাখা মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির আপন চাচী ফারজানা আক্তার লতা তার পা মুচড়ে গুরুতর আঘাত করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুনঃ  শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পূর্ণ নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা পাবেন: ডা. জাহেদ

পরে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি র‍্যাব-১১-এর নজরে এলে তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার ওরফে লতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

র‍্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারজানা আক্তার লতা ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন। পরে তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ফারজানা আক্তার লতা, তার স্বামী কাউসার আহমেদ এবং পিতা আলমাস মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর লতা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তার স্বামী কাউসার আহমেদ ও পিতা আলমাস মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘ কয়েকদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে র‍্যাব-১১-এর অভিযানে প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার ওরফে লতা গ্রেপ্তার হন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নরসিংদীর নবজাতক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ভাইরাল ঘটনার সেই চাচী গ্রেপ্তার

আপডেটের সময়: ০২:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী এক নবজাতক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ভাইরাল ঘটনার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার ওরফে লতা (৩২)‌ কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১১)।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টায় র‍্যাব-১১ নরসিংদীর অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্প কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

র‍্যাব জানায়, সম্প্রতি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার পাইকারদী এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই মাস বয়সী এক শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। শিশুটির মায়ের গোপনে রাখা মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির আপন চাচী ফারজানা আক্তার লতা তার পা মুচড়ে গুরুতর আঘাত করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

পরে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি র‍্যাব-১১-এর নজরে এলে তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার ওরফে লতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  মহেশখালীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

র‍্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারজানা আক্তার লতা ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন। পরে তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ফারজানা আক্তার লতা, তার স্বামী কাউসার আহমেদ এবং পিতা আলমাস মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর লতা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তার স্বামী কাউসার আহমেদ ও পিতা আলমাস মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘ কয়েকদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে র‍্যাব-১১-এর অভিযানে প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার ওরফে লতা গ্রেপ্তার হন।