ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরব ভ্রমণে একাধিক দেশের সতর্কতা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতিদের একের পর এক হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ভ্রমণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ একাধিক দেশ সতর্কতা জারি করেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নতুন করে এ সতর্কতা জারি করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

সৌদি আরবে ভ্রমণ বাতিল করা কিংবা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ নাগরিকদের সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

পাশাপাশি, সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোতে যাতায়াতের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এবং নাজরান, জিজান ও আসির প্রদেশে কোনও কারণেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে এবং সৌদি আরবের অন্যান্য স্থানেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে।

আরও পড়ুনঃ  রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি দিতে গিয়ে আটক ৪

গত রোববার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ইরান ও ইরান-সমর্থিত হুতি হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া জরুরি কাজ না থাকলে সৌদি আরবে অবস্থান করা নাগরিকদের দেশটি ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সে সফর বাতিল করতে বলেছে।

কানাডাও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সৌদি আরব ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। যুক্তরাজ্য জেদ্দা ও দাম্মাম শহরে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে।

আরও পড়ুনঃ  উত্তপ্ত দিল্লি, চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক প্রায় ৫ হাজার

তাছাড়া, মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছে দেশটি।

এক সপ্তাহেরও কম সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পাঁচটি হামলা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এর আগের দিন শনিবার একই বিমানবন্দরে হুতি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। তবে, রোববারের হামলার দায় এখনও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ ও দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিমান চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ঘোষণা ট্রাম্পের, পুতিনের জন্য ‘উপহার’ বললেন জেলেনস্কি

ফ্লাইট চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যানুযায়ী, রোববার জেদ্দা বিমানবন্দরে ১৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া, ৩৭৪টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে যাতায়াত করে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিমান চলাচল বিশ্লেষক ব্রেন্ডান সোবি বলেছেন, হামলার কারণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

সংকট কত দিন চলবে, রিয়াদের বিমানবন্দর কত দিন বন্ধ থাকবে এবং চালুর পর কী ধরনের বিধিনিষেধ বহাল থাবে তার ওপরই এই প্রভাব নির্ভর করবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সৌদি আরব ভ্রমণে একাধিক দেশের সতর্কতা

আপডেটের সময়: ১০:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতিদের একের পর এক হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ভ্রমণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ একাধিক দেশ সতর্কতা জারি করেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নতুন করে এ সতর্কতা জারি করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

সৌদি আরবে ভ্রমণ বাতিল করা কিংবা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ নাগরিকদের সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

পাশাপাশি, সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোতে যাতায়াতের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এবং নাজরান, জিজান ও আসির প্রদেশে কোনও কারণেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে এবং সৌদি আরবের অন্যান্য স্থানেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে।

আরও পড়ুনঃ  রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ঘোষণা ট্রাম্পের, পুতিনের জন্য ‘উপহার’ বললেন জেলেনস্কি

গত রোববার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ইরান ও ইরান-সমর্থিত হুতি হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া জরুরি কাজ না থাকলে সৌদি আরবে অবস্থান করা নাগরিকদের দেশটি ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সে সফর বাতিল করতে বলেছে।

কানাডাও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সৌদি আরব ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। যুক্তরাজ্য জেদ্দা ও দাম্মাম শহরে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে।

আরও পড়ুনঃ  সাত মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার

তাছাড়া, মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছে দেশটি।

এক সপ্তাহেরও কম সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পাঁচটি হামলা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এর আগের দিন শনিবার একই বিমানবন্দরে হুতি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। তবে, রোববারের হামলার দায় এখনও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ ও দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিমান চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা

ফ্লাইট চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যানুযায়ী, রোববার জেদ্দা বিমানবন্দরে ১৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া, ৩৭৪টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে যাতায়াত করে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিমান চলাচল বিশ্লেষক ব্রেন্ডান সোবি বলেছেন, হামলার কারণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

সংকট কত দিন চলবে, রিয়াদের বিমানবন্দর কত দিন বন্ধ থাকবে এবং চালুর পর কী ধরনের বিধিনিষেধ বহাল থাবে তার ওপরই এই প্রভাব নির্ভর করবে।